• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার : রাষ্ট্রপতি ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নিজ কলেজ প্রাঙ্গণে গেলেন প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষার্থীদের দিলেন দেশ গড়ার বার্তা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা: রাষ্ট্রপতি কুমিল্লার সীমান্ত এলাকায় ১৭৬টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি পটুয়াখালীতে মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু চাঁদপুরের মেঘনায় ইলিশ শিকারে দায়ে ৩০ জেলের কারাদণ্ড ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব চুক্তি করতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক: অর্থমন্ত্রী কর্মসংস্থান ও শিল্প চাহিদার সামঞ্জস্যে পূর্ণাঙ্গ টিভেট ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছে বাংলাদেশ: তিয়ানজিনে শিক্ষামন্ত্রী

৩০ বছরের বড় প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে-বিচ্ছেদ, কেমন ছিল সরোজের জীবন

Reporter Name / ৯৮ Time View
Update : শনিবার, ২ মে, ২০২৬

বলিউডের নাচের জগতে এক কিংবদন্তি নাম সরোজ খান। ‘এক দো তিন’ থেকে ‘ডোলা রে ডোলা’সহ অসংখ্য কালজয়ী গানে তাঁর কোরিওগ্রাফি আজও দর্শকদের মুগ্ধ করে। শ্রীদেবী, মাধুরী দীক্ষিত কিংবা ঐশ্বরিয়া রায়ের মতো তারকারা তার নাচে নতুন মাত্রা পেয়েছেন। তবে রঙিন পর্দার আড়ালে তার নিজের জীবন ছিল গভীর সংগ্রাম আর বেদনায় ভরা।

মাত্র ৩ বছর বয়সেই তাঁর নাচের প্রতিভা ধরা পড়ে। যা শুরুতে পরিবার ভুল বুঝেছিল। বাবা-মা ভেবেছিলেন মেয়ে হয়তো মানসিকভাবে অসুস্থ। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে পরীক্ষা করে চিকিৎসক বলেন, ‘আপনার মেয়ে অসুস্থ নয় ও আসলে নাচছে!’ চিকিৎসকের পরামর্শেই শিশুশিল্পী হিসেবে বলিউডে যাত্রা শুরু হয় তার।

জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় আসে কৈশোরেই। শরণার্থী পরিবারে জন্ম নেওয়া সরোজ ছোটবেলাতেই বাবাকে হারান। এরপর মাত্র ১৩ বছর বয়সে নিজের চেয়ে প্রায় ৩০ বছরের বড় ড্যান্স ডিরেক্টর সোহনলালের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একটি কালো সুতা গলায় বেঁধে তাকে ‘বিয়ে’ করার কথা বলা হয়। কিশোরী সরোজ সেটাকেই বিয়ে ভেবে নেন। ১৪ বছর বয়সেই মা হন তিনি। পরে জানতে পারেন, সেই সম্পর্ক আইনি ছিল না এবং সোহনলাল আগেই বিবাহিত ছিলেন।

এই প্রতারণা আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই চালিয়ে যান তিনি। ১৯৭৫ সালে সর্দার রোশন খানের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেন। নিজের সন্তানদের স্বীকৃতি দেওয়ার শর্তে বিয়েতে রাজি হন সরোজ। রোশন সেই শর্ত মেনে নেন।

সংগ্রামের মাঝেই তৈরি হয় এক কিংবদন্তি ক্যারিয়ার। সরোজ খান শুধু তারকাদের নাচ শেখাননি, তৈরি করেছেন নতুন তারকাও। এক সময় তার কাছে নাচ শিখতে আসা এক তরুণকে বিনা পারিশ্রমিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে বলিউডের সুপারস্টার হয়ে ওঠেন গোবিন্দ।

ব্যক্তিগত জীবনে বারবার আঘাত এলেও কাজ থামাননি তিনি। এক কন্যাসন্তানকে হারানো, বড় মেয়ের অকাল মৃত্যু-এসব বেদনা নিয়েও নিজের শিল্পকে আগলে রেখেছেন।

পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালির ‘দেবদাস’ সিনেমার বিখ্যাত ‘ডোলা রে ডোলা’ গানের শুটিংয়ের সময় অসুস্থ অবস্থাতেও মেঝেতে শুয়ে নাচের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। সিনেমা মুক্তির পর বানসালির কাছে তার প্রথম প্রশ্ন ছিল, দর্শক কি গানে কয়েন ছুড়ছে?

২০২০ সালে ৭১ বছর বয়সে এই মহান কোরিওগ্রাফার চলে গেলেও তাঁর সৃষ্টি আজও জীবন্ত। ভারতের অসংখ্য ড্যান্স অ্যাকাডেমি, মঞ্চ আর সিনেমার প্রতিটি ছন্দে এখনও বেঁচে আছেন ‘মাস্টারজি’ সরোজ খান। সূত্র: দ্য ওয়াল


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category