শেলটেক গ্রুপের পক্ষে প্রতিবাদ:
সম্প্রতি একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত “শেলটেক গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দুদকের রহস্যজনক অব্যাহতি ‘নেপথ্যে মোটা অংকের লেনদেনের অভিযোগ’” শীর্ষক সংবাদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়নি শেলটেক গ্রুপ কর্তৃপক্ষ। তবে আহমেদ ফজলে রাব্বি নামের একজন ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত ইমেইল থেকে একটি প্রতিবাদ পাঠিয়েছেন। যদিও ঐ ব্যক্তি উক্ত কোম্পানির সাথে তার সম্পৃক্ততা/ পদ পদবী কিছুই উল্লেখ করেননি।
প্রতিবাদলিপিতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে তিনি দাবি করেছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনটি “যাচাই-বাছাইহীন, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” শেলটেক গ্রুপের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি সুনাম ও সরকারি বিধি-বিধান মেনে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে এবং প্রকাশিত সংবাদে তাদের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
প্রতিবাদে আরও বলা হয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। একই ধরনের সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে কিছু ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে “সেটেলমেন্ট” প্রস্তাবও দিয়েছিল বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ সংক্রান্ত কথোপকথনের রেকর্ড তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
শেলটেক কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, “কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে ব্যর্থ হয়ে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।” একই সঙ্গে তারা সংবাদ প্রকাশের আগে সঠিক তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়ে “অপসাংবাদিকতাকে প্রশ্রয় না দেওয়ার” অনুরোধ জানায়।
প্রতিবেদকের বক্তব্যে:
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক বলেন, “প্রকাশিত সংবাদটি বিভিন্ন অনুসন্ধানী তথ্য, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথি, দুদকের অভ্যন্তরীণ সূত্র, সাবেক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে শেলটেক গ্রুপের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্যও যথাযথভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, নাম প্রকাশ না করার শর্তে “দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক একাধিক কর্মকর্তা প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, শেলটেক গ্রুপ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগের চেয়েও অধিক গুরুতর আর্থিক অনিয়ম, অপ্রদর্শিত সম্পদ, কর ফাঁকি, কালোটাকা বৈধকরণ ও বিদেশে অর্থ পাচার সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানে উঠে এসেছিল। কিন্তু অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত রহস্যজনকভাবে থেমে যায়।”
প্রতিবেদকের ভাষ্য অনুযায়ী, “সাবেক দুদক কর্মকর্তাদের দাবি, একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, সুবিধাভোগী কর্মকর্তা এবং কিছু সাংবাদিকের যোগসাজশে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত মীমাংসা করা হয়। তারা মনে করেন, শেলটেক গ্রুপের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো পুনরায় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, শেলটেক গ্রুপের বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে বাজারমূল্যের চেয়ে অস্বাভাবিক বেশি দামে ফ্ল্যাট বিক্রি, আবার দলিল সম্পাদনের সময় প্রকৃত বিক্রয়মূল্যের চেয়ে কম মূল্য প্রদর্শনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগের বিষয়েও তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গিয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একদিকে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করা হতো, অন্যদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতো।”
প্রতিবেদক আরও বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন এমপি, মন্ত্রী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দুর্নীতি ও লুটপাটের অর্থের বড় একটি অংশ শেলটেক গ্রুপের বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে দুদকের সাবেক একাধিক কর্মকর্তা প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন। তাদের মতে, আবাসন খাত ব্যবহার করে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার একটি বড় নেটওয়ার্ক তখন সক্রিয় ছিল এবং সেই অভিযোগগুলোর গভীর অনুসন্ধান হলে দেশের বহুল আলোচিত অর্থ পাচার ও কালোটাকা বৈধকরণের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।”