বিশেষ প্রতিবেদক: রাজধানী ও আশপাশে ফ্ল্যাট, প্লট ও জমির তথ্য—সম্পদের উৎস নিয়ে উঠছে প্রশ্ন; নিয়োগ প্রক্রিয়ার অভিযোগের সঙ্গে মিলিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে প্রেষণে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালকের (ডিজি) দায়িত্বে থাকা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জায়েদ কামালের নামে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় রাজধানী ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একাধিক স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের অবস্থান, পরিমাণ ও মালিকানা নিয়ে এখন উঠছে প্রশ্ন—সরকারি চাকরি থেকে অর্জিত বৈধ আয়ের সঙ্গে
এসব সম্পদের সামঞ্জস্য কতটা?
প্রাপ্ত দাপ্তরিক নথি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনায় বসুন্ধরা-সংলগ্ন জোয়ার সাহারা, ডুমনি, পূর্বাচল ও রূপগঞ্জ এলাকায় ফ্ল্যাট, প্লট ও জমির মালিকানার তথ্য উঠে এসেছে। নথিতে জায়েদ কামাল ও তাঁর স্ত্রী নাসিমা আক্তারের একক ও যৌথ মালিকানার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া যেসব সম্পদের তথ্য
অনুসন্ধানে পাওয়া নথি অনুযায়ী, সম্পদগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. জোয়ার সাহারা, বসুন্ধরা-সংলগ্ন এলাকা:
২০১৬-১০০৫১৭ নম্বর জোতে, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে সম্পাদিত ৯৬৮০ নম্বর দলিলের আওতায় ০.৪৯০১ একর জমির ওপর ১,১০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ও পার্কিংয়ের তথ্য রয়েছে।
২. ডুমনি মৌজা:
৬/১৯ নম্বর জোতে ৪.৯৫ শতক জমির মালিকানার তথ্য পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী, জমিটির মালিকানা চারজনের যৌথ নামে।
৩. ডুমনি মৌজার আরেকটি দাগ:
১৪৩০/১৯ নম্বর জোতে আরও ৪.৯৫ শতক জমির তথ্য রয়েছে, এটিও চারজনের যৌথ মালিকানাধীন বলে নথিতে উল্লেখ আছে।
৪. পূর্বাচল, কুতুবপুর মৌজা:
ছোলালাই ভূমি অফিসের অধীন ৪৫৮৬ নম্বর জোতে ৪.৯৫ শতক জমির একটি প্লটের তথ্য পাওয়া গেছে।
৫. রূপগঞ্জ, নাওড়া মৌজা:
৯৯৭৬ নম্বর জোতে ৮.২৬ শতক জমির মালিকানার তথ্যও অনুসন্ধানে এসেছে।
সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন কেন?
একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদার সরকারি বেতন-ভাতা এবং চাকরিজীবনে ঘোষিত অন্যান্য বৈধ আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের মূল্য ও অর্জনের সময়কাল মিলিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে রাজধানীর আশপাশের উচ্চমূল্যের এলাকায় একাধিক জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট কেনার অর্থের উৎস কী—তা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। তবে কেবল সম্পদের মালিকানা থাকলেই তা অবৈধভাবে অর্জিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সম্পদের বৈধ উৎস, উত্তরাধিকার, যৌথ মালিকানা, ব্যাংকঋণ, পূর্বের সঞ্চয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয়কর নথি যাচাই করেই প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা সম্ভব।
নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও আলোচনায়
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাম্প্রতিক দুটি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে সংস্থাটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার দাবিও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না, তা নির্ধারণে স্বাধীন তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই প্রয়োজন। অভিযোগের সঙ্গে সম্পদের তথ্যের কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়।
তদন্তের আওতায় আয়ের উৎস যাচাইয়ের দাবি:
জায়েদ কামাল ও তাঁর পরিবারের নামে থাকা সম্পদের দলিল, ক্রয়মূল্য, অর্থের উৎস, ব্যাংক লেনদেন, আয়কর রিটার্ন এবং সম্পদ বিবরণী যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ অবস্থায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবনে অর্জিত আয় ও ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না—তা নথিভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।
তবে এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগ ও প্রশ্নগুলোর বিষয়ে জায়েদ কামাল বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।