নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসবাদ ও দুর্নীতি রোধে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, বিদ্যমান নীতিতে দেশ পরিচালিত হলে স্বাধীনতার হীরকজয়ন্তী বা শতবর্ষ উদযাপন করা গেলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ওয়ার্ড প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, বিভিন্ন দলকে জনগণ ক্ষমতায় বসিয়ে পরীক্ষা করেছে। কিন্তু বিদ্যমান নীতির মাধ্যমে কেউই সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন করতে পারেনি। নির্বাচনী ইশতেহার দেওয়ার পর ক্ষমতায় গিয়ে অনেকে তা ভুলে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নীতির প্রশ্নে কখনো আপস করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। দেশের মানুষের মধ্যে এখন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, ইসলামী আন্দোলনের মাধ্যমে নীতির পরিবর্তন সম্ভব হবে।
সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, দলের শীর্ষ নেতারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৫ আগস্টের পর রাজনীতিতে চাঁদাবাজি ও ধোঁকাবাজির ধারা থাকবে না বলে তারা আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সেই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি সরকার এখনো তালবাহানা করছে। এভাবে চলতে থাকলে জনবিস্ফোরণ ঘটতে সময় লাগবে না।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো গোপন অ্যাজেন্ডা নেই। তারা অতীতেও বলেছেন, বর্তমানে বলছেন এবং ভবিষ্যতেও জনগণের কাছে প্রকাশ্যেই বলবেন যে তারা ইসলামী শরিয়াহ বাস্তবায়ন করতে চান।
সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, দলের নেতাকর্মীদের প্রতিটি ওয়ার্ডের অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়তে হবে এবং শরিয়াহর পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে হবে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ওয়ার্ডগুলো থেকেই শরিয়াহর বিজয় শুরু হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, ভিশন ও মিশন নির্ধারণ করেই তারা এগিয়ে যাচ্ছেন। জনগণ তাদের নির্বাচিত করলে ঢাকা মহানগরকে স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি কে এম শরীয়াতুল্লাহর সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন— ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আরিফুল ইসলাম, নগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি জি এম রুহুল আমীন, আলহাজ্ব এম এইচ মোস্তফা, আলহাজ্ব আবদুর রাজ্জাক।