• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার : রাষ্ট্রপতি ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নিজ কলেজ প্রাঙ্গণে গেলেন প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষার্থীদের দিলেন দেশ গড়ার বার্তা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা: রাষ্ট্রপতি কুমিল্লার সীমান্ত এলাকায় ১৭৬টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি পটুয়াখালীতে মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু চাঁদপুরের মেঘনায় ইলিশ শিকারে দায়ে ৩০ জেলের কারাদণ্ড ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব চুক্তি করতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক: অর্থমন্ত্রী কর্মসংস্থান ও শিল্প চাহিদার সামঞ্জস্যে পূর্ণাঙ্গ টিভেট ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছে বাংলাদেশ: তিয়ানজিনে শিক্ষামন্ত্রী

২০২৯ সালের জুনের মধ্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেন হবে : সড়ক পরিবহন মন্ত্রী

Reporter Name / ২৭ Time View
Update : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, প্রকল্পটির ভূমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি যেসব প্যাকেজে নির্মাণকাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়, সেগুলোতেও গতি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

আজ দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার শশই এলাকায় সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়ক। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

মন্ত্রী জানান, গত ছয় মাসে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ফলে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের অগ্রগতি প্রায় ৫৬ শতাংশে পৌঁছেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে শতভাগ ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করার আশা প্রকাশ করেন তিনি। ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে প্রকল্পের নির্মাণকাজ আরো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলেও জানান তিনি।

প্রকল্পের ভৌত কাজের অগ্রগতি তুলে ধরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের মোট ১৩টি প্যাকেজের মধ্যে আটটি প্যাকেজের কাজ সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে। তবে, পাঁচটি প্যাকেজের কাজের অগ্রগতি এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। যেসব ক্ষেত্রে কাজের অগ্রগতিতে বিচ্যুতি রয়েছে, সেসব সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ আরো গতিশীল করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হলে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো একটি অংশে কাজের গতি কম থাকলে পুরো প্রকল্পের অগ্রগতিতে তার প্রভাব পড়ে। তাই যেসব প্যাকেজে কাজের গতি কম, সেখানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে দ্রুত কাজ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পকে শুধু একটি সড়ক অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে দেখলে হবে না।

এর সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, পর্যটন এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সরাসরি জড়িত। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ আরো দ্রুত, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে।

একই সঙ্গে সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরো গতিশীল হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উন্নত সড়ক যোগাযোগের ফলে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াতে সময় কমার পাশাপাশি এই অঞ্চলের পর্যটন খাতও উপকৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

নির্মাণকাজের কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে সাময়িক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় জনগণের চলাচলে ভোগান্তি কমানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।

নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী প্রকল্পের নির্মাণকাজে গুণগতমান নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্মাণকাজ পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি নির্দেশ দেন।

দিনব্যাপী সফরের অংশ হিসেবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাঁচপুর-নরসিংদী অংশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশ এবং হবিগঞ্জ অংশ পরিদর্শন করেন।

এ সময় তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং নির্মাণকাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category