• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার : রাষ্ট্রপতি ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নিজ কলেজ প্রাঙ্গণে গেলেন প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষার্থীদের দিলেন দেশ গড়ার বার্তা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা: রাষ্ট্রপতি কুমিল্লার সীমান্ত এলাকায় ১৭৬টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি পটুয়াখালীতে মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু চাঁদপুরের মেঘনায় ইলিশ শিকারে দায়ে ৩০ জেলের কারাদণ্ড ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব চুক্তি করতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক: অর্থমন্ত্রী কর্মসংস্থান ও শিল্প চাহিদার সামঞ্জস্যে পূর্ণাঙ্গ টিভেট ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছে বাংলাদেশ: তিয়ানজিনে শিক্ষামন্ত্রী

রাড্ডা ক্লিনিকে ভাঙচুর-লুটের ঘটনায় ৪ আসামি কারাগারে

Reporter Name / ৭৯ Time View
Update : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় গ্রেপ্তার চার আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

শনিবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিদ্দিক আজাদের আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহআলী থানার প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই।

এর আগে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শাহআলী থানার উপপরিদর্শক মো. আতোয়ার রহমান। কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন—মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাবিব (২০)।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে শাহআলী থানাধীন এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক প্রবেশ করে।

তারা প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্ব পালনরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আব্দুল হাইকে (৬৩) মারধর করে বেঁধে রাখে বলে অভিযোগ। পরে হামলাকারীরা হ্যামার দিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশের প্রায় ২৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৫ ফুট প্রস্থের একটি সেমিপাকা ঘর ভেকু দিয়ে ভেঙে ফেলে। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার আরেকটি সেমিপাকা ঘর ও এর আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জনায় পুলিশ। ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের ব্যবহৃত প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ ও ১৭ ফুট প্রস্থের সেমিপাকা ঘর এবং সেখানে থাকা আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রস্থের রেজিস্ট্রেশন শাখায় ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়।

সবশেষে আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের পাকা ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। এতে আরো প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি ও তিনটি স্টিলের আলমারি নিয়ে যায়। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে পাঁচটি ঘর, দরজা-জানালা ভাঙচুর এবং মালামাল লুটে মোট প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয় এবং সেখানে একটি দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে যায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার শাহআলী থানায় দায়ের করা এজাহারে মো. হানিফ মিয়াসহ (৫০) অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এজাহারে বলা হয়, প্রায় ৫০ বছর ধরে সরকার থেকে চুক্তির মাধ্যমে পাওয়া জমিতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, ইপিআই টিকাদান ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে। পূর্বশত্রুতার জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, হামলাকারীদের অনেকে মাথায় লাল কাপড় বেঁধে ও মুখোশ পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। তারা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করে আটকে রাখে এবং এরপর বিভিন্ন স্থাপনা ও কক্ষ ভাঙচুর করে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকার সামগ্রী, টিকা প্রদানের রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও উপকরণ, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি স্টিলের আলমারি, পাঁচটি স্টিলের ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট, দুটি টিভি, দুটি কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে যায়।প্রতিষ্ঠানটির দাবি, হামলা ও লুটপাটে তাদের প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আটকের আবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। অর্থের বিনিময়ে হামলায় অংশ নেওয়ার বিষয়েও তাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা শাহআলী থানার বাসিন্দা না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানিয়েছেন।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে চারজনের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।

উল্লেক্য, পুলিশের সিডিএমএস ও থানার রেকর্ড যাচাই করে গ্রেপ্তার মো. জুয়েলের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের একটি মাদক মামলা রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category