• বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
বিদায় হজের ভাষণ আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক : রাষ্ট্রপতি নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি : রহমানেল মাছউদ অনিয়মের পাহাড় মাথায় নিয়েও ১৮ দিনের ‘ম্যাজিক’: ওএসডি ভেঙে স্বপদে প্রকৌশলী শাহজাহান বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই হবে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আনসার-ভিডিপির ৮ নতুন স্থাপনা উদ্বোধন, আধুনিকায়নে নতুন মাত্রা গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল : ডা. জাহেদ সরকারের ৬ মাস/ বড় সাফল্য হচ্ছে জনসম্পৃক্ততা: মাহদী আমিন বিগত ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য: সালেহ শিবলী

সাংবাদিক, মালিক ও সরকার যৌথভাবে গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

Reporter Name / ৩৪ Time View
Update : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যম নিজেই স্বীকার করছে তাদের ওপর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই। স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই গণমাধ্যম গড়ে তুলতে সাংবাদিক, মালিক ও সরকার যৌথভাবে কাজ করছে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের (টিইসি) ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায়, যেখানে গণমাধ্যমের মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদের ন্যায্য মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

তিনি গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমকে একে অপরের পরিপূরক উল্লেখ করে বলেন, টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যেমন স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম অপরিহার্য, তেমনি একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়।

মন্ত্রী গণমাধ্যমকে কেবল একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতা ও এই শিল্প অন্য যেকোনো ক্ষেত্রর চেয়ে ভিন্ন। এটি রাষ্ট্র ও সমাজের একটি অঘোষিত অথচ অনিবার্য চতুর্থ স্তম্ভ। ফলে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য গণমাধ্যম শিল্পের অর্থনৈতিক ভিত্তিকেও শক্তিশালী হতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, মালিকপক্ষ যদি ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ ও যুক্তিসংগত মুনাফা না পায়, তাহলে গণমাধ্যম শিল্প টেকসই হবে না। একই সঙ্গে শক্তিশালী বেসরকারি উৎপাদন অর্থনীতি ছাড়া পণ্য বিজ্ঞাপন বাজারও সম্প্রসারিত হবে না।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে প্রচলিত গণমাধ্যমের সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটর্ফম, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হয়ে মিডিয়া ইকোসিস্টেমকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তথ্যমন্ত্রী এই পরিবর্তিত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎমুখী নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনা দরকার, যাতে প্রত্যেক অংশীজনের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হয়।

তিনি বলেন, সুশাসন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা না থাকলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে ব্যবসায়িক স্বার্থ বা দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

তিনি এ প্রবণতাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও গত জাতীয় নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান সংস্কারের যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, গণমাধ্যম খাতেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল।

টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান ও ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিইসি’র সদস্য সচিব ও সময় টেলিভিশনের সিইও সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ বাবু।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category