বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ শহীদ আতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দোসরের ভূমিকা পালন, কোটি কোটি টাকার নিয়োগ ও বদলি-বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে প্রভাবশালী এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে তার গভীর ও অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। এমনকি বিভিন্ন প্রভাবশালী মন্ত্রীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবিও এখন প্রকাশ্যে। সম্প্রতি সরকার তাকে ওই পদ থেকে বদলি করলেও এক ‘অলৌকিক’ ক্ষমতার জোরে সেই বদলি ঠেকিয়ে নিজের চেয়ার আগলে রেখেছেন এই বিতর্কিত কর্মকর্তা।
সূত্র জানায়, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক জায়েদ কামাল তার সিন্ডিকেটের অন্যতম সিপাহশালার ডিরেক্টর এডমিন, ইন্সপেক্টর রেজায় রাব্বি, শামস সরমান ও ফায়ার ফাইটার সাদ্দাম এর মাধ্যমে সকল দুর্নীতি কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করে থাকেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে একক আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার করে আসছেন শহীদ আতাহার। প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ফায়ার ফাইটার, লিডার, ড্রাইভারসহ বিভিন্ন পদে কর্মরত সদস্যদের বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী ও দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। কাঙ্ক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে বদলির জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে বিপুল অংকের অনানুষ্ঠানিক অর্থ আদায়ের একটি অলিখিত নিয়ম চালু করেছেন তিনি।
সবচেয়ে বড় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ফায়ার সার্ভিসের সাম্প্রতিক নিয়োগ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সময়ের নিয়োগগুলোতে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন শহীদ আতাহার। বর্তমানে চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও স্বচ্ছতা ব্যাহত করতে তার নেতৃত্বাধীন বিশেষ চক্রটি অত্যন্ত সক্রিয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অবৈধ সুবিধা দেওয়ার নামে বিভিন্ন জেলার প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিপুল অঙ্কের টাকা দফারফা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, কেবল নিয়োগ বা বদলি-বাণিজ্যই নয়, একটি আলোচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদনকে প্রভাবিত করার পেছনেও হাত রয়েছে এই পরিচালকের। যার কারণে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও রহস্যজনকভাবে তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হচ্ছে না। এছাড়া তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মচারীর একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে তদবির ও প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ প্রশাসনিক সুবিধা আদায় করে চলেছে।
ফায়ার সার্ভিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের মতো একটি জরুরি সেবামূলক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিবাদীদের আঁকড়ে থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও জনআস্থা অক্ষুণ্ন রাখতে শহীদ আতাহার হোসেনের মতো কর্মকর্তাদের দ্রুত অপসারণ এবং তার যাবতীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি।
এসব গুরুতর অভিযোগ এবং রহস্যজনকভাবে বদলি ঠেকিয়ে চেয়ার আঁকড়ে থাকার বিষয়ে পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ শহীদ আতাহার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অবিলম্বে এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।