• বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
বিদায় হজের ভাষণ আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক : রাষ্ট্রপতি নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি : রহমানেল মাছউদ অনিয়মের পাহাড় মাথায় নিয়েও ১৮ দিনের ‘ম্যাজিক’: ওএসডি ভেঙে স্বপদে প্রকৌশলী শাহজাহান বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই হবে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আনসার-ভিডিপির ৮ নতুন স্থাপনা উদ্বোধন, আধুনিকায়নে নতুন মাত্রা গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল : ডা. জাহেদ সরকারের ৬ মাস/ বড় সাফল্য হচ্ছে জনসম্পৃক্ততা: মাহদী আমিন বিগত ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য: সালেহ শিবলী

পরিবারসহ প্রাণনাশের ঝুঁকিতে বরিশালের সাবেক ছাত্রনেতা কামরুল আলম

বরিশাল জেলা প্রতিনিধি: / ১৭৬ Time View
Update : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের র‍্যালিতে কামরুল

৫ই আগস্ট ২০২৪ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ছাত্রলীগ এবং ২০২৫ সালে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা হয়। এই ঘটনায় সাবেক ছাত্রদল নেতা কামরুলের পুরো পরিবার এলাকা ছাড়া। এলাকায় ফিরলেই এই ছাত্রনেতার জীবন সংশয়।

বরিশাল প্রতিনিধি:
রাজনৈতিক বাস্তবতা, একাধিক প্রত্যয়নপত্র, থানায় দায়ের করা অভিযোগ এবং পারিবারিক বক্তব্যে উঠে এসেছে এক গভীর উদ্বেগজনক বাস্তবতা—বরিশালের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোঃ কামরুল আলমের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন তার জীবনের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রাপ্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তিনি হুমকি ও সহিংসতার আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।

বিশেষ করে ৫ই আগস্ট ২০২৪ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পতন হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ছাত্রলীগ এবং ২০২৫ সালে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার পর এই আশঙ্খা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও নথিপত্র অনুযায়ী, কামরুল আলম ছাত্রজীবন থেকেই বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের একজন সক্রিয় ছাত্রনেতা ছিলেন এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার এই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রেক্ষাপটে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে শত্রুতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

প্রাপ নথির মধ্যে রয়েছে একটি থানায় দায়ের করা অভিযোগপত্র, একটি সাংগঠনিক প্রত্যয়নপত্র এবং একটি স্থানীয় রাজনৈতিক পরিচয় সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র। এসব নথিতে তার অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং বর্তমান নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রত্যয়নপত্রগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার দেশে অবস্থান নিরাপদ নয় এবং জীবননাশের বাস্তব আশঙ্কা রয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকেও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। কামরুল আলমের বড় ভাই রেজাউল আলম গণমাধ্যমকে জানান, বিভিন্ন সময়ে তাদের বাড়িতে হামলার চেষ্টা হয়েছে এবং অচেনা নম্বর থেকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে, ফলে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে। বসতবাড়িকে কেন্দ্র করে একাধিকবার হামলার হুমকিতে তারা ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় রয়েছে এবং এই পরিস্থিতির জন্য কামরুল আলমের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকেই দায়ী করা হচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ছোট ভাইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা পরিবারের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল এবং সেই মানসিক চাপের কারণে তাদের বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন, যা পরবর্তীতে তার মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এলাকার ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত হয়নি। এতে করে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে ওঠে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নেতাদের দেওয়া প্রত্যয়নপত্রেও একই ধরনের সতর্কতা উঠে এসেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কামরুল আলমের দেশে ফেরা বা অবস্থান করা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো পরিস্থিতি বিদ্যমান নয়।

স্থানীয় ৮ নং চাঁদপুরা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি ফারুক আলম লিটন গণমাধ্যমকে জানান, অতীতে গণতান্ত্রিক ধারায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন কামরুল আলম এবং ছাত্র রাজনীতিতে বরিশালের পরিচিত মুখ হিসেবে তিনি সুপরিচিত ছিলেন। তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুরো পরিবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। কামরুলের পুরো পরিবার বর্তমানে রাজনৈতিক কারণেই গ্রামছাড়া।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে, যার পর থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অধীনে রাজনৈতিক কার্যক্রমে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয় বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্র উল্লেখ করেছে।

একই সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত বা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে মূল দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়েও অনুরূপ পদক্ষেপের কথা বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা পূর্বে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে যারা স্থানীয় পর্যায়ে সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করেছেন।

বর্তমানে প্রাণনাশের আশঙ্কায় কামরুল আলম যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের মতে, দেশে ফেরার মতো নিরাপদ পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। তার রাজনৈতিক সহকর্মীরাও মনে করেন, চলমান অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে তার দেশে প্রত্যাবর্তন জীবনহানির কারণ হতে পারে।

বাস্তবতা ও নথিপত্র, প্রত্যয়নপত্র এবং প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যসমূহ একটি বিষয়ই ইঙ্গিত করছে—বর্তমান বাস্তবতায় কামরুল আলমের দেশে ফিরে আসা তার জন্য মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category