• বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
বিদায় হজের ভাষণ আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক : রাষ্ট্রপতি নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি : রহমানেল মাছউদ অনিয়মের পাহাড় মাথায় নিয়েও ১৮ দিনের ‘ম্যাজিক’: ওএসডি ভেঙে স্বপদে প্রকৌশলী শাহজাহান বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই হবে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আনসার-ভিডিপির ৮ নতুন স্থাপনা উদ্বোধন, আধুনিকায়নে নতুন মাত্রা গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল : ডা. জাহেদ সরকারের ৬ মাস/ বড় সাফল্য হচ্ছে জনসম্পৃক্ততা: মাহদী আমিন বিগত ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য: সালেহ শিবলী

অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর জোর অর্থমন্ত্রীর

Reporter Name / ৫২ Time View
Update : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রান্তিক ও মূলধারার বাইরে থাকা মানুষদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, শুধু রাজনীতিতে গণতন্ত্র থাকলেই হবে না, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র থাকতে হবে। সেজন্য সরকার অর্থনীতিতে গণতন্ত্রীকরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং এর সুফল পাওয়ার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে।

আজ রোববার রাজধানীর পিকেএসএফ মিলনায়তনে রেইজ-২ প্রকল্পের ‘স্টেপিং ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ও ভুটানে বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় পরিচালক ড. গেইল মার্টিন।

এছাড়াও স্বাগত বক্তব্য দেন পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের। অনুষ্ঠানে রেইজ প্রকল্পের কয়েকজন উপকারভোগী ও সহযোগী প্রতিষ্ঠান তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে পিকেএসএফ-এর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকার কঠোর মানদণ্ড চালু করেছে।

আমির খসরু বলেন, এখন আমরা বিনিয়োগের বিপরীতে আয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশগত বিষয় বিবেচনায় প্রকল্প মূল্যায়ন করছি। কোনো প্রকল্প এসব মানদণ্ড পূরণ করতে না পারলে তা গ্রহণ করা হবে না।

তিনি বলেন, করদাতাদের অর্থ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ব্যয় করতে হবে। প্রতিটি প্রকল্পের যৌক্তিকতা, সম্ভাব্য ফলাফল ও নাগরিক সুবিধা সম্পর্কে জানার অধিকার জনগণের রয়েছে।

পিকেএসএফ-এর কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং ঋণ পুনরুদ্ধারে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে।

সরকারের সামগ্রিক অর্থনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে সরকার এখন সামাজিক কর্মসূচি ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, গোষ্ঠীনির্ভর ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের বাইরে ছিল। ফলে দারিদ্র্য ক্রমাগত বেড়েছে।

আমির খসরু বলেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, সামাজিক সুরক্ষা ও স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন জনবান্ধব উদ্যোগ নিয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিবারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও নারীরা প্রায়ই তাদের কাজের যথাযথ স্বীকৃতি পান না। এই কর্মসূচির আওতায় নারীদের হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে পরিবার ও সমাজে তাদের ক্ষমতায়ন বাড়বে। একইসঙ্গে ভোগ ও সঞ্চয় বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসা বাবদ ব্যক্তিগত ব্যয় এখনও আফগানিস্তানের চেয়েও বেশি। তাই সরকার সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার দিকে এগোচ্ছে। আমরা প্রতিরোধমূলক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা খাতকে আরও শক্তিশালী করতে চাই। এ লক্ষ্যে আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর হবে।

দেশের জনমিতিক সুফল কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে এ সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে।

তিনি ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’র গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পী, কুটির শিল্প ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মূলধারার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। কারুশিল্পীদের জন্য আর্থিক সহায়তা, নকশা উন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং, বিপণন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশে সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

‘একটি গ্রাম, একটি পণ্য’ ধারণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শীতলপাটির মতো পণ্যে বিশেষায়িত গ্রামগুলোকে ঋণ, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, ব্র্যান্ডিং সহায়তা ও অনলাইন বিপণনের সুযোগ দেওয়া হবে। এতে আয় ও রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়বে।

থাইল্যান্ডের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, স্থানীয় উৎপাদকদের প্রতি সমন্বিত সরকারি সহায়তা গ্রামীণ অর্থনীতিকে বদলে দিতে এবং বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক পণ্য তৈরি করতে সক্ষম।

সংস্কৃতি, থিয়েটার, সংগীত ও খেলাধুলার অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব খাতকে দেশের সৃজনশীল শিল্প এবং জিডিপিতে অবদানকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। জিডিপি শুধু উৎপাদন সংশ্লিষ্ট বিষয় নয়। সৃজনশীল শিল্প, ক্রীড়া অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমও কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করে।

মন্ত্রী বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জসহ দেশীয় ও বৈশ্বিক নানা চাপের মধ্যেও সরকার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। সবার সহযোগিতায় আমরা বাংলাদেশের গল্প বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে চাই।

রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন, যাতে সবাই সমানভাবে অবদান রাখতে ও সুফল ভোগ করতে পারে।

উল্লেখ্য, পিকেএসএফ রেইজ দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় চালু করেছে। এর লক্ষ্য আরও দুই লাখ তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।

বিশ্বব্যাংক ও পিকেএসএফের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট চার লাখ ২৩ হাজার ১শ’ জন সরাসরি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে চর, হাওর, পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকার মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি দলিত জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী তরুণদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নারীদের কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ বাড়াতে ১ হাজার ৬শ’ নারীকে ‘হোম-বেইজড চাইল্ডকেয়ার’ উদ্যোক্তা হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রকল্পে অংশ নেওয়া শিক্ষানবিশ ও উদ্যোক্তারা তাদের সফলতার গল্প তুলে ধরেন।

সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বলেন, বাজারভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণ, জীবনমুখী দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সহায়তার মাধ্যমে এ প্রকল্প তরুণদের উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে এটি ক্ষুদ্র উদ্যোগের প্রসার ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উল্লেখ্য, রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (রেইজ) প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংক ও পিকেএসএফের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

পিকেএসএফ মনে করে, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে এ প্রকল্প ক্ষুদ্র উদ্যোগের বিকাশ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category