• বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
বিদায় হজের ভাষণ আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক : রাষ্ট্রপতি নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি : রহমানেল মাছউদ অনিয়মের পাহাড় মাথায় নিয়েও ১৮ দিনের ‘ম্যাজিক’: ওএসডি ভেঙে স্বপদে প্রকৌশলী শাহজাহান বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই হবে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আনসার-ভিডিপির ৮ নতুন স্থাপনা উদ্বোধন, আধুনিকায়নে নতুন মাত্রা গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল : ডা. জাহেদ সরকারের ৬ মাস/ বড় সাফল্য হচ্ছে জনসম্পৃক্ততা: মাহদী আমিন বিগত ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য: সালেহ শিবলী

বন্ধ শিল্পকারখানা চালুতে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল

Reporter Name / ৪১ Time View
Update : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানা ফের চালু এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনরর্থায়ন ও সহায়তা তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে দেশে ২৫ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

শনিবার (২৩ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। আগে যেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, পরে তা কমে ৪ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসে। বর্তমানে তা আরও কমে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, স্টিল, সিরামিক, তথ্যপ্রযুক্তি ও উৎপাদন খাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।

গভর্নর বলেন, ব্যাংক খাতে চাপ বেড়েছে, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে, অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে এবং আমানতকারীদের আস্থাও কমেছে। উচ্চ সুদের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ব্যবসা সম্প্রসারণে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এ বাস্তবতায় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং বন্ধ শিল্পকারখানা সচল করতে এ বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় দেওয়া হবে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা, সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক খাতে ১০ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা এবং উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে আরও ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব ১৯ হাজার কোটি টাকার সহায়তা তহবিলে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্সে ৫ হাজার কোটি টাকা, কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতে ২ হাজার কোটি টাকা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে ১ হাজার কোটি টাকা, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১ হাজার কোটি টাকা, হিমায়িত মাছ ও ফিশ এক্সপোর্টে ২ হাজার কোটি টাকা, পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন বিনিয়োগে ১ হাজার কোটি টাকা, বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা, স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটি টাকা এবং সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

গভর্নর জানান, ক্রিয়েটিভ ইকোনমির জন্য বরাদ্দ ৫০০ কোটি টাকা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। এটি ঋণ নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, তহবিলটি পুরোপুরি কার্যকর হলে ২৫ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে শিল্পকারখানা পুনরায় চালু, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য বরাদ্দ ১ হাজার কোটি টাকা থেকে প্রায় এক লাখ মানুষের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করা হবে। অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনৈতিক কাজে ঋণ দেওয়া হবে আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের মাধ্যমে। এতে আনসার ও ভিডিপির লাখো সদস্য উপকৃত হবেন বলে জানানো হয়েছে।

সুদের হারের বিষয়ে গভর্নর বলেন, পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ শতাংশ সুদে অর্থ দেবে। ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ স্প্রেড রাখতে পারবে। ফলে বড় ঋণগ্রহীতারা ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে ক্ষুদ্র ঋণের ক্ষেত্রে পরিচালন ব্যয় বেশি হওয়ায় সুদের হার কিছুটা বেশি হতে পারে। বিশেষ করে ছোট উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানভিত্তিক ঋণের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি সুদ নির্ধারণ করা হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো আবার চালু হবে, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়বে, গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হবে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি ফিরে আসবে।

 

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category