• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় সকলকে সজাগ থাকার আহবান প্রধানমন্ত্রীর গাইবান্ধায় ২৫ হাজার লিটার গ্যাস মজুত করায় তিনজনের কারাদণ্ড লক্ষ্মীপুরে গাড়িচাপায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু, পরিবারের শোকের মাতম এইচএসসিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন জাতীয় হকির যমজ বোন জেডি ভ্যান্সের চিঠি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেছে ইরান: আরাঘচি তাহসিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার পাশে থাকবে: ববি হাজ্জাজ চট্টগ্রামের বড় সাজ্জাদের সহযোগী নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার এইচএসসির ফলে বড় ধস, কমেছে পাস ও জিপিএ-৫ দুই-ই জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আইজিপিকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে

Reporter Name / ২৭ Time View
Update : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, আইজিপি বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে ধরে নিতে হবে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মুগদায় আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে তিনি এই দাবি জানান।

আইজিপির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। প্রত্যাহার করা না হলে আমরা ধরে নেব—তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি এই বক্তব্য দিয়েছেন। আর তারেক রহমানের নির্দেশে বক্তব্য না দিয়ে থাকলে আইজিপিকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে অবিলম্বে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

আইজিপির এই মন্তব্যের মাধ্যমে পুরো পুলিশ বাহিনীকে অপমান করা হয়েছে দাবি করে এনসিপির এই নেতা বলেন, পুলিশ বাহিনী ঘুরে দাঁড়াতে চায় এবং জনগণের পুলিশ হতে চায়। কিন্তু আইজিপি পুলিশ বাহিনীকে আবার লাঠিবাহিনী, ক্রসফায়ারের বাহিনী ও চাঁদাবাজের বাহিনীতে পরিণত করতে চাচ্ছেন।

পুলিশের নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রিয় পুলিশ ভাই-বোনেরা, আপনাদের অনুরোধ করব—এই আইজিপির কথা আপনাদের শোনার দরকার নেই। এই আইজিপি আসবে-যাবে। নিম্নপদস্থ পুলিশ সদস্যদের ব্যবহার করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেন। তাদের রক্ত ও পোশাক বিক্রি করে কর্মকর্তারা বিদেশে বাড়িঘর তৈরি করেন। আমরা আহ্বান জানাব, আপনারা এই আইজিপির স্বার্থের বলি হবেন না এবং কোনো অবৈধ আদেশ মানবেন না। জনগণ যখন ঘুরে দাঁড়ায়, তখন লাঠি বা বারুদ দিয়ে জনতা ঠেকানো যায় না।

সমাবেশে আইজিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকায় বাড়ি কেনার অভিযোগ রয়েছে। তবে বক্তব্যে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে তিনি কোনো দাপ্তরিক প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ কেমন বাংলাদেশে এসে আমরা পড়লাম? যেখানে জনগণের ভয়, কোনো নিরাপত্তা নেই। পুলিশের নিরাপত্তা নেই, মন্ত্রীর নিরাপত্তা নেই। এটা আবার কেমন বাংলাদেশ, যেখানে মন্ত্রীরাও অস্ত্র নিয়ে বের হন, চাঁদাবাজরা অস্ত্র নিয়ে বের হয়, ডাকাতরা অস্ত্র নিয়ে বের হয়? প্রশ্ন আসে—চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরাই কি মন্ত্রী হয়েছে, নাকি মন্ত্রীরা সন্ত্রাসী হয়েছে? জনগণ আজ বিভ্রান্ত। রাত ৯টার পর ঢাকা শহরে কেউ আর বের হতে সাহস পায় না। বের হলে জামাকাপড় খুলে রেখে দেওয়া হয়। খুলনায় নিরাপত্তার অভাবে পুলিশও বের হতে ভয় পায়।

পারিবারিক স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির কঠোর সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমাদের দেশের মন্ত্রীরা মন্ত্রিত্ব পান, আর তাঁদের ভাইয়েরা ব্যবসা শুরু করেন। স্বামীরা মন্ত্রিত্ব পেলে স্ত্রীরা পান ডিলারশিপ, সন্তানরা পান ঠিকাদারি আর শালি-সমন্ধীরা ব্যবসা পান।

মন্ত্রীদের সন্তান ও পরিবারের শিক্ষাগত ও চিকিৎসা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন হাসনাত তুলে বলেন, দেশের কতজন মন্ত্রীর সন্তান দেশে পড়াশোনা করে, তা দেখতে হবে। মন্ত্রীদের কেউ যদি এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিশ্বাস না রাখেন, তবে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস থাকবে কীভাবে? একইভাবে তারা দেশের হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবাও নেন না; বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা মুগদাবাসীকে অতীতে ভুল না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভুল সংশোধন করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেজন্য আগামী সিটি নির্বাচনে আমাদের প্রার্থী, জনতার প্রার্থী, এনসিপির প্রার্থী এবং চাঁদাবাজ ও বিএনপির সন্ত্রাসবাদের আতঙ্ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আপনাদের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আশা করি, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আপনাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারবেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ২০০৬ সালে বিচারপতিদের বয়স বাড়িয়ে দিয়ে নির্বাচনের দিকে যাওয়ার চেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশকে ১৭ বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার দায় বিএনপির ওপরই বর্তায়। শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো ইতিহাস বিএনপির নেই। তারা শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতায় আসে, কিন্তু দেশটাকে অশান্ত ও বিশৃঙ্খল করে দিয়ে ক্ষমতা থেকে যেতে বাধ্য হয়। ১৯৯৬ ও ২০০৬—উভয় বারই তারা ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। নিয়ন্ত্রিত সরকারব্যবস্থা গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ১৭ বছরের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান রাজনৈতিক আলোচনা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার প্রস্তাবনা নিয়ে তিনি বলেন, সালাহউদ্দিনের কুবুদ্ধিতে আবার একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নীলনকশা আঁকা হচ্ছে—যেখানে নাকি স্পিকারকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category